বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

মাদ্রাসায় শিশু যৌন নির্যাতন: মাদ্রাসাগুলোর জবাবদিহি কোথায়?

ধর্ষণ বা বলাৎকার ইস্যুতে মাদ্রাসাগুলো বেশ বিতর্কিত। বাংলাদেশের ৯৩% মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী, যেখানে রাষ্ট্র, সমাজ ও পারিবারিক ব্যবস্থাগুলো অনেকটা স্বেচ্ছাচারী; ভিন্ন মত, ধর্ম এবং যৌন পরিচয়ের মানুষের উপর। কিন্তু বরাবরের মতো যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে এলেও অপরাধগুলো বিচারহীনতায় থেকে যায়; এর মধ্যে অন্যতম মাদ্রাসাগুলোতে নাবালক ছেলেদের যৌন নির্যাতন বা বলাৎকারের মতো ইস্যুগুলো।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় এসব মাদ্রাসাগুলোতে ঘটে যাওয়া অপরাধকর্মগুলোকে মাদ্রাসার পরিচয়ে তুলে ধরার বিপরীতে ভিন্ন পরিচয়ে তুলে ধরা হয়। কিন্তু এসব মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করা কথিত ইসলামিক আলেমরা যদি অপরাধে জড়ায়, তাদের পরিচয় প্রকাশে কেন দ্বিমত?

আলেমরা কথিত ধর্ষক, যৌনাচারী নবী মুহাম্মদের উত্তরসূরি, দায়ী ইলাল্লাহ কিংবা পথপ্রদর্শক?

কিন্তু অন্তরালের যে বিষয়টি জানা উচিত, ইসলাম ধর্মের কথিত নবী মুহাম্মদ একজন শিশু ধর্ষণকারী। শিশু আয়েশাকে বিয়ের নামে ধর্ষণ করেন, যখন আয়েশার বয়স মাত্র ৯ বছর। একজন নিকৃষ্ট যৌন নির্যাতনকারী নবীর উম্মতরা আসলে কেমন হতে পারে, তা অনুধাবন করাটা সহজ। যে নবী নিজেই আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের এক নাবালিকার যৌনাঙ্গে রঙ্গরসে লিপ্ত এক এপস্টিন, সেক্ষেত্রে বর্তমান সময়ের কথিত আলেম-মাওলানারা নাবালক ছেলেদের ধরে বলাৎকার করবে—এটি অস্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ বেশ সীমিত।

অপরদিকে, মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থার পুরো বিষয়টিই রিগ্রেসিভ ও নির্যাতন-সহায়ক। সম্প্রতি এমজেএফ (মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন)-এর একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো থেকে নির্যাতনের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আসে, যা বেশ আশঙ্কাজনক। এবং সত্যিকার অর্থেই মাদ্রাসাগুলোতে যৌন নির্যাতন, বলাৎকার ও অনৈতিকতা মহামারির আকার ধারণ করেছে।

কিন্তু এখানে আরেকটি বিষয় মাদ্রাসাগুলোতে ঘটে যাওয়া এসব বলাৎকারের ঘটনাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত।
বাংলাদেশে কথিত ধর্মের দোহাই দিয়ে ভিন্ন যৌন পরিচয়ের মানুষদের এক ধরনের নিগ্রহের শিকার করা হয়। রাষ্ট্র, সমাজ ও পারিবারিকভাবে তাদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম-অধ্যুষিত হওয়ায় ধর্ম ও ইসলামের দোহাই দিয়ে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়, অর্থাৎ গে, লেসবিয়ান, সমকামী, উভকামী—এ ধরনের সংখ্যালঘু মানুষদের ইসলামী শরিয়াহর নামে বেশিরভাগ সময়ই গর্হিত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। যা স্পষ্টতই মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

কিন্তু মাদ্রাসাগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়, মাদ্রাসার এসব ধর্মীয় তথাকথিত আলেমদের সমলিঙ্গের শিশুদের যৌন নির্যাতন করতে। সমলিঙ্গের মানুষের প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করার বিষয়টি খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। কিন্তু এটি যদি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি অন্য আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হয়, তবে সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু সেটি যদি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সঙ্গে হয়, তবে এটি ফৌজদারি অপরাধ।

শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধকে এক করে দেখা উচিত নয়। শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, যার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক সম্পর্কের কোনো সম্পর্ক নেই।

বাংলাদেশে যৌন নির্যাতনের আঁতুড়ঘর কথিত মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার নামে এ ধরনের এপস্টাইনের আইল্যান্ডগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে পাবলিক টয়লেটে রূপান্তর করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত, যেখান থেকে কথিত শরিয়াহ আইনের নামে ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থার বিকাশ ঘটানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *