মঙ্গলবার, ২৮ জুলা, ২০২৬

বাংলাদেশে উগ্রবাদ, নারীর স্বাধীনতা ও ধর্মীয় বয়ানের সমালোচনা

এমনই এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমাদের বর্তমান বাংলাদেশ। যেখানে জামায়াতে ইসলামীর মতো ধর্মীয় চরমপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। যেখানে নারীদের সম্পর্কে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি এরই মধ্যে প্রকাশ করেছে। যেখানে জাতীয় সংসদের মতো স্থানে মৌলবাদী গোষ্ঠী যে নারীদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, তাদের আপাদমস্তক সবারই কালো কাপড়ে ঢাকা। সমস্ত বাংলাদেশকে এভাবে ধর্ম, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও বোরখার কালো কাপড়ে ঢেকে ফেলতে চায়।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আকস্মিক উগ্রবাদের উত্থান ঘটে। যেখানে শরিয়াহ আইনসহ ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন ঘনীভূত হতে থাকে।

সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের নারীর মাথা কালো হিজাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে দেশের সকল নারী সমাজকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়—নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না এসব উগ্রবাদী ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলো।

ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁকে এই পর্দাকে কেন্দ্র করে নারীদের ওপর যে প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা শিউরে ওঠার মতো। বোরকা বা পর্দা যখন স্রেফ একটি ব্যক্তিগত পছন্দের পোশাক না হয়ে ‘রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বাধ্যতামূলক আইন’ হিসেবে চেপে বসে, তখন তা মানুষের মৌলিক মানবাধিকারকে কীভাবে ধুলিস্যাৎ করে তা অনুধাবন করা সম্ভব হবে, যদি কোনোভাবে এ উগ্রপন্থী শরিয়াহ আইন চাওয়া চরমপন্থীরা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে বোরখা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত। পর্দা মানে কালো কফিন না।

সম্প্রতি বাংলাদেশের এক এপস্টিন, শিশু ধর্ষক নবী মুহাম্মদের অনুসারী ধর্মীয় আলেম রাজ্জাক বিন ইউসুফ মন্তব্য করেন, যার মেয়ে রাস্তায় হাঁটছে, তার বাপ তাহাজ্জুদ পড়লেও জান্নাত পাবে না—সে হচ্ছে দাইয়ুস।

প্রথমত, জান্নাত বলে কিছু নেই। আর এমন সব মন্তব্যের মধ্য দিয়ে নারীদের পর্দার অন্তরালে নিয়ে এসে শুধুমাত্র পুরুষের যৌনসঙ্গী হিসেবে প্রতিস্থাপনের জৌলুস। মেয়েরা রাস্তায় অর্ধনগ্ন হয়ে হাঁটবে, দৌড়াবে, মেলামেশা করবে; এতে বীর্যপাত ঘটবে শুধু ধর্ম ব্যবসায়ীদের।

যে জান্নাতের ভয় ধর্মান্ধ মুসলমানকে বাংলাদেশের সমাজে দেখানো হচ্ছে, সে জান্নাত আসলে কী? জান্নাত বলে আদৌ কি কিছু আছে?

যে জান্নাতের বর্ণনা পাওয়া যায়, সে জান্নাত হলো হেরেমখানা—যেখানে ৭২ জন নগ্ন হুর সারাদিন খোদার আরশের সামনে যোনি উন্মোচিত করে যৌনতায় লিপ্ত হবে, এবং খোদাতায়ালা স্বয়ং সেই যৌনতা আরশ থেকে উপভোগ করবেন।

কথিত রূপকথার জান্নাতে নারীদের অবমাননা, অমর্যাদা এবং শ্লীলতাহানির গল্প কী বার্তা দেয়? ধর্ম, হিজাব, নারীদের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত করা কখনো আত্মমর্যাদাকর নয় একজন নারীর জন্য।

যেসব চরমপন্থী, জঙ্গিরা স্বাধীন মেয়ের বাবাদের দাইয়ুস বলে গালি দেয়, তারা ভয় পায় নারীর স্বাধীনতাকে; ভয় পায় সাহসী এবং সচেতন নারীদের। কারণ এ নারীরা থাকলে নারীবিদ্বেষীদের দাপট থাকে না, নারীদের চাইলেই কালো বোরখায় ঢেকে ফেলা যায় না। ধর্মের প্রতারণা থাকে না, মিথ্যা জান্নাতের দালালিও থাকে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *